ডব্লিউএসআইএস এ্যাওয়ার্ড ২০১৮: অনলাইন পাঠদানে চ্যাম্পিয়ন ‘মুক্তপাঠ’ | লার্ন উইথ নাসিমূল

ডব্লিউএসআইএস এ্যাওয়ার্ড ২০১৮: অনলাইন পাঠদানে চ্যাম্পিয়ন ‘মুক্তপাঠ’

প্রযুক্তি খাতের সম্মানজনক ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস)’-এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের অন্যতম উদ্যোগ ‘মুক্তপাঠ’। এর আগে বাংলাদেশ থেকে টানা চারবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস)’ পুরস্কার জিতে নেয়।

 

এ বছর ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন মুক্তপাঠসহ মোট ৯০টি তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রকল্পকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদর দপ্তর জেনেভার ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স কেন্দ্রে ২০ মার্চ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীর মোট ১৮ বিজয়ী উদ্যোগগুলোকে পুরষ্কৃত করা হবে। এদিন মোট ৯০ জন চ্যাম্পিয়নের মধ্যে ১৮টি উদ্যোগকে উইনার তথা বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে।
২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৮৫ টি প্রকল্প পুরষ্কারের জন্য আবেদন জমা দেয়, যার মধ্যে ৪৯২টি প্রকল্পকে ভোট দানের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে ডব্লিউএসআইএস কর্তৃপক্ষ। এরপর ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত প্রায় দশ লক্ষ ভোট ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বিবেচনায় মোট বিশ্বজুড়ে ৯০টি উদ্যোগকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মনোনীত করে কর্তৃপক্ষ।

 

জাতীয় ই-লার্নিং প্লাটফর্ম মুক্তপাঠ বাংলাদেশের শিক্ষাকে সবার দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়ার কাজ করছে। বর্তমানে মুক্তপাঠে এক লক্ষের অধিক শিক্ষার্থী অনলাইনের মাধ্যমে ১৯ টি অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি করছে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগটি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ৪ (গুনগত শিক্ষা) ও ৮ (যথাযথ চাকরি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) অর্জনের জন্য অর্থবহ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া সম্প্রতি এটুআই ও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ইতিমধ্যে মুক্তপাঠের মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য অনলাইনে সাংবাদিকতা শেখার চারটি কোর্স চালু করছে, যার মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে কর্মরত অসংখ্য সাংবাদিক সাংবাদিকতা বিষয়ে নিজেদের জানাশোনা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথম ডব্লিউএসআইএস এওয়ার্ড জিতেছিল বাংলাদেশ। এই পুরস্কার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের বড় ধরনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন এবং ৫ বছরের মধ্যে মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বীকৃতিস্বরূপ ওই বছর এটুআইকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সেটাই প্রথম বাংলাদেশের কোনো উদ্যোগ যা ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটির চূড়ান্ত পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়।

২০১৫ সালে এটুআইয়ের প্রকল্প ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ এর জন্য বাংলাদেশ ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার অর্জন করে।

এরপর ২০১৬ সালে এনজিও’স নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)- এর নারী সাংবাদিকদের নিয়ে একটি উদ্যোগ এবং এটুআই প্রোগ্রামের ৪টি উদ্যোগ সন্মানজনক ‘ডব্লিউএসআইএস এওয়ার্ড– ২০১৬’ এর চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

২০১৭ সালে চারটি মৌলিক উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য এটুআই (ডব্লিউএসআইএস)সম্মাননা পায়। এর মধ্যে ‘মাল্টিমিডিযা টকিং বুক’ ‘উদ্যোগ সে বছর চুড়ান্তভাবে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করে।

Avatar

Nasimul Ahsan

গণমাধ্যম কর্মী। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটে সহকারী প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি।

সকল লেখা দেখুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সম্পর্কে

Avatar

Nasimul Ahsan

গণমাধ্যম কর্মী। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটে সহকারী প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি।

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

সাবস্ক্রাইব করুন