মোবাইল সাংবাদিকতায় সহযোগি যন্ত্র

লেখাটি শেয়ার করুন

মোবাইল সাংবাদিক হতে চাইলে কিছু খুব সাধারন অথচ মৌলিক ও জরুরি ডিভাইস আপনার থাকতেই হবে। এই ডিভাইস গুলো মোবাইল সাংবাদিক হিসেবে যেমন আপনার পেশাদারিত্বকে অনেকগুন বাড়িয়ে দেবে, তেমনি মোবাইলের মাধ্যমে তোলা সংবাদের ছবি ও ভিডিওকে মানসম্মত ও প্রচারযোগ্য করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রথমত আপনি যদি একজন মোবাইল সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো মানের স্মার্টফোনের অধিকারী হতে হবে। সেক্ষেত্রে ফোন কিনতে গিয়ে আপনি যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেন, তার অন্যতম হচ্ছে ফোনটির ছবি বা ভিডিও কোয়ালিটি কেমন? ফোনের ডাটা স্টোরেজ ক্যাপাসিটি পর্যাপ্ত কিনা? মোবাইল সাংবাদিকতায় অন্যান্য যেসব ডিভাইস কিংবা হালকা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, সেগুলো মোবাইলটিতে সহজে ব্যবহার করা যাবে কিনা? আপনার বাজেটের মধ্যে সঠিক মোবাইলটি কেনার জন্য আপনি নিদৃষ্ট মোবাইল সম্পর্কে অনলাইনে যেসব ইউজার রিভিউ থাকে সেগুলো পড়ে যেমন ধারনা পেতে পারেন, তেমনি দোকানে গিয়ে মোবাইলটি তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যবহার করেও দেখতে পারেন। এই দুটো প্রক্রিয়া আপনাকে সঠিক মোবাইলটি কিনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। মোবাইল সাংবাদিকতা করতে মোবাইল সহায়ক বিভিন্ন ছোটখাট যেসব ডিভাইস সম্পর্কে আপনার জানা দরকার, নিচে সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

মোবাইল সাংবাদিকতা করতে গেলে আপনাকে প্রথমেই আপনার ফোনের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। মোবাইলের নিরাপত্তায় আপনি যেসব ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন, সেগুলো হলো :

১.নিরাপত্তা কভার: সাধারনত যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, তাদের অধিকাংশই নিজেদের মোবাইলের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা কভার বা Protective case ব্যবহার করে থাকেন। এটি ব্যবহারের ফলে সংবাদের ছবি বা ফুটেজ সংগ্রহের সময় মোবাইলটি হাত থেকে পড়ে গেলেও সেটি নিরাপদ থাকবে।

২.স্ক্রিণ প্রোটেকটর: মোবাইল ফোনের স্ক্রিণ বেশ সংবেদনশীল। সামান্য আঙুলের ছাপ কিংবা কোন কিছুর দাগ পড়লে সেটা চিরস্থায়ী ভাবে মোবাইল স্ক্রিণে লেগে থাকতে পারে। এজন্য সাধারণত আমরা স্ক্রিণ প্রোটেকটর ব্যবহার করে থাকি। মোবাইলের স্ক্রিণ প্রোটেকটর আপনার ফোনের স্ক্রিণ ফেটে যাওয়া কিংবা অপ্রতাশিত দাগের হাত থেকে রক্ষা করবে।

৩. পরিচ্ছন্নতা কাপড়: সাধারনত মোবাইলের আই গ্লাস কিংবা মোবাইল ক্যামেরা লেন্সকে নিয়মিত পরিষ্কারের জন্য মোবাইল সাংবাদিক হিসেবে আপনার কাছে নরম কাপড়ের টুকরো থাকা উচিত। কোন ঘটনা বা ইভেন্টের ছবি কিংবা ভিডিও সংগ্রহের পূর্বে মোবাইলের ক্যামেরা লেন্সকে পরিষ্কার করে নিলে সেটা নিশ্চিতভাবে আপনাকে আরও স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন ছবি ও ফুটেজ দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

৪.পাওয়ার ব্যাংক :
কারো একটি সাংক্ষাৎকার গ্রহণ করতে গেলেন কিংবা হঠাৎ করে কোন ঘটনার ছবি বা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের প্রয়োজন হয়ে পড়লো, কিন্তু দেখলেন মোবাইলে পর্যাপ্ত চার্জ নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি একজন মোবাইল সাংবাদিকের জন্য খুবই বিব্রতকর ও অপ্রত্যাশিত। এরকম পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সবসময় সাথে একটি মোবাইল চার্জার কিংবা পাওয়ার ব্যাংক রাখা একান্ত দরকারি।

৫.ট্রাইপড : ট্রাইপড হচ্ছে একটি মোবাইল মাউন্টিং ডিভাইস, প্যান (ডান থেকে বামের শট), টিল্টসহ (উপর থেকে নিচের শট) স্মুথ শট গ্রহনের জন্য যার ওপর মোবাইলকে রেখে ভিডিও ধারণ করা হয়। সাধারনত ভিডিও ক্যামেরায় ট্রাইপগের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তবে সম্প্রতি মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও গ্রহণের জন্য ট্রাইপডের ব্যবহার আবশ্যিক ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ট্রাইপড যেহুতু তিন পা (পড) বিশিষ্ট হয়, সেকারণে এটির উপর মোবাইল রেখে খুব সহজে আপনি স্মুথ ভিডিও পেতে পারেন।

স্মার্টফোন ট্রাইপড

ট্রাইপডের ওপরের দিকে সাধরনত মোবাইলকে শক্তভাবে লাগিয়ে রাখার জন্য একটি হেড থাকে। এছাড়া হেডের নিচে প্যানিং রড নামের একটি বড় লাঠির মতো অংশ থাকে, যেটা ব্যবহার করে মোবাইলকে আপনি ডান থেকে বামে বা বাম থেকে ডানে ঘোড়ানোর পাশাপাশি ওপওে নীচেও ওঠানামা করাতে পারবেন। আর এর ফলে আপনি খুব সহজে মোবাইল দিয়েই আপনি প্যান বা টিল্ট শট নিতে পারবেন। এছাড়া ট্রাইপডে যে তিনটি পা থাকে, সেগুলো সাধারনত সিঙ্গেল ফোল্ড, ডাবল ফোল্ড ও ট্রিপল ফোল্ড হয়ে থাকে।

এবং প্রতিটি ফোল্ডারেই লেগ লক থাকে। আপনি আপনার দরকার মতো ট্রাইপডের ফোল্ডারগুলো খুলে মোবাইলকে রেকর্ডিং এর জন্য কাক্সিখত উচ্চতায় রেখে লেগ লকগুলো আটকিয়ে নিয়ে রেকর্ডিং করতে পারবেন। এছাড়া ট্রাইপডের নিচের দিকে স্প্রেডার লাগানো থাকে। এটির মাধ্যমে আপনি ট্রাইপডকে আপনার দরকার মতো ভ‚মিতে ছড়িয়ে দিয়ে ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারবেন। মোবাইল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সাধারনত খুব হালকা, বহনযোগ্য ট্রাইপড ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

মনোপড ও সেলফি স্টিক : ট্রাইপেডর পাশাপাশি মোবাইল সাংবাদিকরা মনোপডও ব্যবহার করে থাকেন। মনোপড কিংবা ট্রাইপডের ব্যবহারের উদ্যোশ্য মোটামুটি এক হলেও অনেকে সহজ বহনযোগ্যতার জন্য মনোপড ব্যবহার করে থাকেন। মনোপডে যে একটি পা থাকে, সাধারনত সেটার নিচের দিকে তিনটি স্প্রেডার থাকে। এই তিনটি স্প্রেডার ছড়িয়ে দিয়ে খুব সহজেই মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের কাজটি আপনি করতে পারবেন। তবে মনোপডের চেয়ে সেলফি স্টিকের জনপ্রিয়তা বেশি। সেলফি স্টিককে আপনি হাতে নিয়ে ক্যামেরা পজিশনকে আপনার পছন্দমতো জায়গা নিয়ে সহজেই ছবি বা ভিডিও করতে পারবেন। সাধারনত ভীড়ের মধ্যে আপনার অবস্থান থেকে একটু দূরের দৃশ্য নিতে চাইলে সেলফি স্টিক আপনার জন্য দারুণ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

অডিও ডিভাইস: মোবাইলে সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য নানা ধরনের অডিও ডিভাইস ব্যবহার হয়ে থাকে। অনেক সময় স্মার্টফোন ভালো হলে এবং বেশ কাছে থেকে ইন্টারভিউ রেকর্ড করা গেলে আলাদা করে অডিও ডিভাইস ব্যবহারের দরকার হয় না।

আপনি আপনার প্রয়োজন মতো যে কোন সাউন্ড রেকডার্র/ ভিডিও মাইক্রোফোন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারেন। আমি মূলত Boya ভিডিও মাইক্রোফোন ব্যবহার করি। পোর্টাবিলিটির দিক থেকে এটা যেমন খুবই হালকা, তেমনি দামও বেশ সস্তা।

মোবাইল সাংবাদিকতা সিরিজের আগের লেখাসমূহ :

লেখাটি শেয়ার করুন

৫ thoughts on “মোবাইল সাংবাদিকতায় সহযোগি যন্ত্র”

  1. অগ্রগামী সমাজে সংবাদ কর্মীদের কাজের পরিধি ও বিস্তারে সহায়ক ভুমিকা রাখবে আশা করছি। মোবাইল সাংবাদিকতার উপর পরিপূর্ণ তথ্য জানতে চাই আপনার মাধ্যমে। ধন্যবাদ: ভালো থাকবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার সংখ্যা
Scroll to Top